শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

চিরিরবন্দরের লিচুর বাগানগুলি যেন মধুর হাড়ি

দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বরাবরের মতো এবারও দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে লিচু বাগানে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরন অভিযান তাক লাগিয়ে দিয়েছে মৌ চাষিরা। ফলে একদিকে যেমন মৌ চাষিরা মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে মৌমাছির মাধ্যমে মুকুলে মুকুলে পরাগায়ন ঘটার কারনে লিচু গাছ মালিকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এক কথায় বাগানে মৌ চাষ করে চাষিরাও খুশি এবং মালিকরাও খুশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এক হাজারেরও বেশী লিচু বাগান। অল্প খরচ আর পরিচর্যায় প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ আয় হয় বলে অনেকেই লিচুর বাগান করেছেন। চলতি বছর চিরিরবন্দর উপজেলায় ৫ শত ১০হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে লিচুর বাগানগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। উপজেলার পুনট্টি ও ভিয়াইল ইউনিয়নের সড়কের পাশ দিয়ে অবস্থিত লিচু বাগানগুলোতে ব্যাপক মুকুল এসেছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ী আলহাজ¦ ফেরাজ উদ্দিন ও আলহাজ¦ ওয়াদুদ রহমানের লিচু বাগানগুলোতে প্রায় ২ শতাধিক লিচু গাছ থাকায় সুদুর টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও সাতক্ষীরা থেকে মো: রাশেদুল ইসলাম বাবলু ও নজরুল ইসলাম সহ ১০ জন মৌচাষি ১৫টি বাগানে ১’শ থেকে দেড়’শ ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির মৌমাছির বাক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌচাষ করে মধু সংগ্রহ করছেন। মৌ চাষি দুলাাল ইসলাম জানান, বৈজ্ঞানিক উপায়ে উদ্ভাবিত মৌচাষ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। ওই বাগানে তারা দুই শতাধিক এর বেশি ব্রড ও নিউক্লিয়াস নামের ছোট বড় কাঠের বক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বাক্সে একটি রানী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করছে। ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তর অন্তর প্রতিটি বাক্স হতে চাষিরা ৫ থেকে ৬ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। যে লিচু গাছে মৌমাছির আগমন বেশি হয় সে গাছের মুকুলে পরাগায়ন ভাল হয়। ফলে ওই গাছে বা বাগানে লিচুর যেমন বাম্পার ফলনের সম্ভবনা থাকে, তেমনি মৌ চাষিরা বেশি মধু সংগ্রহ করে বানিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে মৌ চাষীরা প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ মণ মধু সংগ্রহ করে বাজারজাত করছে। কাঠের তৈরী শত শত বিশেষ বাক্সের মাধ্যমে মৌ চাষে মধু সংগ্রহ করা দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীও উচ্ছসিত হয়ে ছুটে আসছেন মধু কেনার জন্য লিচু বাগানে। ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, বাজারে খাঁটি মধু পাওয়া যায়না। তাই স্ব-চোখে নির্ভেজাল মধু সংগ্রহ করতে পেরে তারা নিজেকে ধন্য মনে করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানায়, চলতি বছর প্রতিটি লিচু বাগানে ভালো মুকুল এসেছে। আর এ কারণে প্রচুর মৌমাছির আগমন দেখা দিয়েছে। লিচু গাছ থেকে মৌমাছি মধু আহরণের ফলে গাছে গাছে বেশি করে পরাগায়ন হয় এবং শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ লিচুর বেশি ফলন হয়। এতে কৃষক ও মৌচাষী উভয়ই লাভবান হয়ে থাকেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com